ছাতকে বিতর্কিত গাড়ি চালককে বাঁচাতে মরিয়া এসিল্যান্ড!
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে এক অস্থায়ী গাড়ি চালকের প্রশাসনিক দাপট ও সরকারি কম্পিউটারে অননুমোদিত হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত চালক ইজাজুলকে নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিও চিত্র প্রকাশ পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সাফাই গাইছেন এসিল্যান্ড মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইজাজুল বর্তমানে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে এসিল্যান্ডের গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ উঠেছে, গাড়ি চালনার বাইরেও তিনি এসিল্যান্ড কার্যালয়ের ‘মেঘনা’ কক্ষে নিয়মিত বসে সরকারি কম্পিউটারে কাজ করেন। এমনকি অফিসের দায়িত্বশীল স্টাফদের অনুপস্থিতিতেও তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরকারি কম্পিউটারে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র টাইপ ও ই-মেইল আদান-প্রদান করতে দেখা যায়।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ইজাজুলের এই অনধিকার চর্চার ফলে সরকারি গোপন নথিপত্র ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁর মাধ্যমে সরকারি ভূমি লিজ আবেদনের তদন্ত প্রতিবেদনের সারাংশ চুরিরও অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অফিসের গোপন কক্ষে একজন অস্থায়ী চালকের এমন অবাধ যাতায়াত ও দালালি সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার বিষয়টি পুরো কার্যালয়ের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
৩ মে গাড়ি চালক ইজাজুল কর্তৃক সরকারি কম্পিউটার ব্যবহারের একটি ভিডিও ফুটেজ জনৈক গ্রাহকের মাধ্যমে ফাঁস হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি গঠন করা হয়নি কোনো তদন্ত কমিটি। এতে করে অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলামের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত অপেশাদার মন্তব্য করেন। নিজেকে ‘কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার’ দাবি করে তিনি সংবাদকর্মীদের বলেন, ওই কম্পিউটারে বিশেষ কিছুই নেই। সে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেই পারে। এটি যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে! চাইলে আপনারাও ব্যবহার করতে পারেন।
গাড়ি চালকের হাতে সরকারি কম্পিউটার কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং দায়সারা বক্তব্য দেন। এসিল্যান্ডের এমন রহস্যজনক অবস্থান ও অভিযুক্তের পক্ষে সাফাই গাওয়ায় সাংবাদিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা দোয়ারাবাজারের ইউএনও অরূপ রতন সিংহ এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, অফিসের কাজের জন্য আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট জনবল রয়েছে। গাড়ি চালকের কাজ গাড়ি চালানো, কম্পিউটার চালানো নয়।
সাবেক রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদপুষ্ট একজন বিতর্কিত অস্থায়ী চালকের সরকারি নথিপত্রে এমন হস্তক্ষেপ এবং তাকে রক্ষায় এসিল্যান্ডের মরিয়া চেষ্টা উপজেলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য চুরির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
