ছাতকে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫
সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ছাতকে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৪ মে) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার জালালপুর-বদিরগাঁও এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তিয়রজালাল গ্রামের ইউসুফ আলী (৬০), তাঁর বড় মেয়ে নিলোফা (৩৫), জামাতা সাহাবুদ্দিন (৪০) এবং ছোট মেয়ে কেয়া মনি (১৬)। দুর্ঘটনায় অটোরিকশা চালক মানিক মিয়াও (৩০) নিহত হয়েছেন। তিনি ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের পূর্ব নোয়ারাই গ্রামের বিরাজ আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দুই মেয়ে ও এক জামাতাকে নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন ইউসুফ আলী। তাদের বহনকারী নম্বরবিহীন অটোরিকশাটি গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর-বদিরগাঁও এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৭৭৬১) সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশা চালক মানিক মিয়া ও যাত্রী ইউসুফ আলীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নিলোফা, সাহাবুদ্দিন ও কেয়া মনিকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদেরও মৃত্যু হয়। ইউসুফ আলীর ছেলে শুভ মিয়া একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জয়কলস হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ছাতক ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। দুর্ঘটনার পর সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জয়কলস হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মোতালেব সোমবার রাতে জানান, দুর্ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও সিএনজি অটোরিকশা পুলিশ জব্দ করেছে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যুর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছায়নি বলে তিনি জানান।
একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
