ছাতকে মেয়র-কাউন্সিলর দ্বন্দ্বে বলির পাঁঠা কর্মচারী
৫ বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তাজ উদ্দিন
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার সাবেক মেয়র ও এক নারী কাউন্সিলরের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে চাকরি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তাজ উদ্দিন নামের এক নিরীহ কর্মচারী। গত পাঁচ বছর ধরে কর্মহীন অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিজের অধিকার ফিরে পেতে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী তাজ উদ্দিন ছাতক পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরেরবন্দ এলাকার মৃত আবদুল মালিকের ছেলে। ২০১২ সালে মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতনে অস্থায়ী ভিত্তিতে পৌরসভায় শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ ১০ বছর নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে এমএলএসএস পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৬ অক্টোবর তাকে স্থায়ী নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। কিন্তু স্থায়ী পদে যোগদানের মাত্র ২০ দিনের মাথায় নেমে আসে দুর্যোগ। তৎকালীন মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকুলীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওই কাউন্সিলরকে পক্ষাবলম্বনের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো নোটিশ, তদন্ত বা শুনানি ছাড়াই তাকে মৌখিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
চাকরি হারিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাজ উদ্দিনের। অর্থের অভাবে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম এবং বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তাজ উদ্দিনের স্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমার স্বামী আজ পথে বসেছেন। আমাদের ঘরে দুই বেলা খাবার জুটছে না, অথচ কেউ এই অন্যায়ের প্রতিকার করছে না।
পৌর কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো সুরাহা না পেয়ে ২০২৫ সালের ৪ জুন সুনামগঞ্জের সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন তাজ উদ্দিন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তাকে বিধি মোতাবেক বরখাস্ত করা হয়নি, বরং বেআইনিভাবে কর্মস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার ব্যয় মেটাতে গিয়ে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব।
সাবেক পৌর কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকুলী বলেন, তাজ উদ্দিন আমাকে কোনো সহযোগিতা করেনি। রাজনৈতিক আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বর্তমান প্রশাসকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ছাতক পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গরিব লোকটির চাকরি হওয়া প্রয়োজন। যেহেতু বিষয়টি এখন আদালতে মামলাধীন, তাই আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
