মাকে দেখতে এসে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে হামলার শিকার ইতালি প্রবাসী
প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন অসুস্থ মাকে দেখতে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ছুটে যান সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে গিয়ে নিজেই হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নুর আলম নামের এক প্রবাসী। এ সময় তার ১৪ বছর বয়সী ভাগনে, বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) সামনে এ ঘটনা ঘটে। নুর আলমের বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা গ্রামে।
নুর আলম জানান, দুদিন আগে দুর্ঘটনায় তার মায়ের পা ভেঙে যায়। মাকে দেখতে ইতালি থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে গিয়ে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখতে পান। একপর্যায়ে পঞ্চম তলার ওটি এলাকায় শুরু হওয়া বাগ্বিতণ্ডা চতুর্থ তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
তার অভিযোগ, একপর্যায়ে তার ১৪ বছর বয়সী ভাগনেকে মারধর করা হয়। ভাগনেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার বোনকেও মারধর করা হয়। পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে গেলে তিনিও হামলার শিকার হন।
নুর আলম বলেন, ‘আমি ইতালি থেকে মাকে দেখতে দেশে এসেছি। সাড়ে তিন বছর পর দেশে ফিরে হাসপাতালে এমন পরিস্থিতি দেখে আমি হতবাক। আমার ও আমার পরিবারের ওপর কেন হামলা হলো, আমি জানি না। আমি সবার কাছে এর বিচার চাই।’
নুর আলমের দাবি, হামলায় জড়িত এক চিকিৎসকের নাম আল মামুন বলে তার ভাগনে তাকে জানিয়েছেন। ঘটনার সময় নীল পোশাক ও মাস্ক পরা একদল ব্যক্তিও সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েও তাৎক্ষণিক সাড়া পাননি বলে দাবি করেন নুর আলম। পরে হাসপাতালের নিচতলায় পুলিশ বক্সে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় দুই সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
মাকে দেখতে দেশে এসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নুর আলম। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

