জৈন্তাপুরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সিলেটের জৈন্তাপুরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক সচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় বিয়াম ডা. কুদরত উল্লাহ স্কুল মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।
বিয়াম ডা. কুদরত উল্লাহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বিলালের সভাপতিত্বে এবং জৈন্তাপুর থানা ট্রাফিকের সার্জেন্ট দিনার আলি মুন্সির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট থানা ট্রাফিকের ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেন খাঁন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেন খাঁন বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক আইন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। সড়ক নিরাপত্তা কেবল ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার সম্মিলিত নাগরিক দায়িত্ব। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং তা মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, রাস্তায় চলাচলের সময় ফুটপাত ব্যবহার করতে হবে। ফুটপাত না থাকলে রাস্তার ডান পাশ ঘেঁষে সতর্কতার সঙ্গে হাঁটতে হবে। হাঁটার সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে বা হঠাৎ দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া যাবে না। এছাড়া চলন্ত যানবাহনে ওঠানামা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চললে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক সংকেত ও বিভিন্ন নিয়মাবলি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এ সময় ‘ট্রাফিক আইন মানব, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ব’, ‘নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন’—এমন সচেতনতামূলক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেন, সুমন দেব, নাঈম আহমেদ রাহিম, শাকিল আহমেদ এবং অভিভাবক ইলিয়াস সারকিস হেলালসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
আয়োজকেরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল সড়ক ব্যবহারকারী হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
