বিয়ানীবাজারে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল, যুবক গ্রেফতার
সিলেটের বিয়ানীবাজারে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেল ও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগে মওদুদ আহমদ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকা থেকে শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত মওদুদ আহমদকে সিলেটের আমল গ্রহণকারী আদালত-৪ এ হাজির করা হলে তিনি বিচারকের কাছে অপরাধের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অভিযুক্ত মওদুদ বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ গ্রামের মো. আব্দুল জলিলের ছেলে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মা-বাবা হারানো এক তরুণী মামার বাড়িতে বসবাস করতেন। ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন মওদুদ। সম্পর্কের একপর্যায়ে তরুণীর অজান্তেই কৌশলে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিজের মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে ওই তরুণী মওদুদকে বিয়ের জন্য তাগিদ দিলে তিনি অপকৌশলের আশ্রয় নেন। ধারণকৃত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফেসবুকসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা হাতিয়ে নেন।
সর্বশেষ অভিযুক্ত যুবক ওই তরুণীর কাছে এককালীন ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত হুমকি দেন। কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে সিলেটের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২’-এ নিয়মিত মামলা হিসেবে এটি নথিভুক্ত করে। মামলায় মওদুদ আহমদ ছাড়াও তার সহযোগী একই গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে আব্দুল শহিদকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিকন্দর জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকায় পালিয়ে থাকা প্রধান আসামি মওদুদকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বিশদ জবানবন্দি দিয়েছে।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্ম (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতে স্বীকারোক্তি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ভুক্তভোগী তরুণীকে আইনি প্রক্রিয়ায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
