হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী ৬৪ মণ্ডপের নিরাপত্তায় ৫৫ বিজিবি
শারদীয় দুর্গোৎসব অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকার ৬৪টি পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৫ বিজিবি)। মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোট ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান, বিজিওএম হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৫ নম্বর গোপায়া ইউনিয়নের একটি পূজামণ্ডপ আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
পরিদর্শনকালে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক মণ্ডপটির সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং বিজিবির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন।
৫৫ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টরের অধীন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন তাদের দায়িত্বপূর্ণ ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। পূজাকে কেন্দ্র করে নিয়মিত সীমান্ত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে কাজ করছে তারা।
ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত রেখার আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৬৩টি এবং ইউনিট সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে থাকা একটিসহ মোট ৬৪টি পূজামণ্ডপে বিজিবি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদান করছে। গত ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ নিরাপত্তা দায়িত্ব আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে।
এদিকে পূজা উপলক্ষে বিশেষ পাহারার পাশাপাশি চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে ৫৫ বিজিবি। ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবির পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ২৫ জন চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় প্রায় ৬২ কোটি ৫৪ লাখ ৩ হাজার ১০৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য, গাঁজা ও অবৈধ মালামাল।
বিজিবির এমন নানামুখী তৎপরতায় সীমান্তবর্তী জনপদে সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক চোরাচালান দমনের পাশাপাশি শারদীয় উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।

