বালাগঞ্জে বিতর্কিত ব্রিজ নির্মাণ ঠেকাতে এলাকাবাসীর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের করচারপাড় এলাকায় একটি ‘অপ্রয়োজনীয়’ ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে বসতভিটা ও শত শত একর ফসলি জমি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
২১ সেপ্টেম্বর বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী তাদের এই যৌক্তিক দাবি ও শঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম মসাইদ জানান, করচারপাড় এলাকায় একটি জরাজীর্ণ ও হেলে পড়া ছোট কালভার্ট রয়েছে, যা বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। অতীতে স্থানীয়দের আপত্তি উপেক্ষা করে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির ওপর অপরিকল্পিতভাবে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন সেই স্থানেই প্রায় ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, প্রস্তাবিত ব্রিজের উভয় পাশে কোনো সরকারি খাল বা নালা নেই। এর পরিবর্তে সেখানে রয়েছে সুলেমান মিয়া, আব্দুল বারী ও সাইদুল ইসলাম মসাইদসহ অনেকের বসতবাড়ি এবং মূল্যবান আমন চাষের জমি। ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে তাদের ভিটেমাটি হারানোর উপক্রম হবে।
বিকল্প প্রস্তাবনায় এলাকাবাসী জানান, প্রস্তাবিত স্থানের পরিবর্তে রাধাকোনা ও করচারপাড় গ্রামের মধ্যবর্তী ‘করচার খাল’-এর ওপর ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে কয়েক গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। এছাড়া পিংলাকোনা ও করচার খাল খননের দাবিও জানান তারা। কবরস্থান তলিয়ে যাওয়া নিয়ে এলাকায় যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাইদুল ইসলাম বলেন, গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে কবরস্থানটিকে আশপাশের জমির তুলনায় ৫ ফুট উঁচু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ব্রিজ নির্মাণে আপত্তির বিষয়টি আমরা অবগত আছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সরেজমিন তদন্ত করে ভূমি ও পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করা। তারা অবিলম্বে এই স্থান পরিবর্তন করে জনস্বার্থপূর্ণ এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল বারী, মাহতাব উদ্দিন, আব্দুল আলী, ফাতেহা বেগম, পারভীন বেগম, জিলু বেগম, রেজিয়া বেগম, মেহতাব বেগম ও রানী বেগমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিককেও অবহিত করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
