সংবাদ প্রকাশের পর আশরাফের পাশে উপজেলা প্রশাসন
পা দিয়ে লিখে দাখিল পাস
জন্মের ৬ বছর পর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই হাত ঝলসে হারিয়েছিলেন দুটি হাতই। কিন্তু শারীরিক এই বড় প্রতিবন্ধকতাকে দমাতে পারেনি তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে শুধু মনের জোর আর কঠোর অধ্যবসায়কে সম্বল করে পা দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী আশরাফ মোহাম্মদ আলী হোসেন।
তাঁর এই সংগ্রামী পথচলার গল্প নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দৈনিক শ্যামল সিলেট পত্রিকায় “দুই হাত ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন আশরাফ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা স্থানীয় জেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে অদম্য এই শিক্ষার্থীর বাড়িতে খোঁজখবর নেন এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জৈন্তাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায়। এ সময় অদম্য ওই শিক্ষার্থীর পড়াশোনা সচল রাখতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে ও মনোবল অটুট রাখতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় জানান, আশরাফের মেধা ও পরিশ্রম অন্যদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে বড় কোনো বাধা হতে পারে না, তা সে প্রমাণ করে দেখিয়েছে। এই মেধাবী শিক্ষার্থীর পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে এবং যেকোনো প্রয়োজনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সবসময় তাঁর পাশে থাকবে। দুই হাত হারিয়েও থেমে থাকেননি আশরাফ—তাঁর এই জয়যাত্রা সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য এক অনন্য বার্তা বহন করে।
এ ধরনের উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থী ও তার পরিবার গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
