প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ‘প্রবেশের চেষ্টা’, সেই যুবকের জামিন মেলেনি
ঢাকার ফার্মগেটে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার বাইকচালক মুহিবুল্লাহ মুবিনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এক্ষেত্রে তাকে আপাতত কারাগারেই থাকা লাগছে বলে জানান তার আইনজীবী।
এদিন আসামিপক্ষে তার আইনজীবী রবিউল আলম জুয়েল জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
শুনানিতে তিনি জানান, আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ।
তার মধ্যে নাশকতার করার কোনো অভিপ্রায় ছিল না।
তিনি আবেগবশত সেলফি তোলার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য মেলেনি।
যে কোনো শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে ঢুকে পড়েন তিনি।
এসময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।
এই মামলায় গ্রেফতারের পর ৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক মো. আসাদুর রহমান তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
ওইদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়ায় কেআইবি অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে মুবিনকে গ্রেফতার করা হয়।
ওই সময় সেখানে ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মুবিন অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা এবং আলোচনা সভা বানচালের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন।
একপর্যায়ে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেফতারের সময় মুবিনের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, দুটি পাসপোর্ট, দুটি মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
ওই ঘটনায় তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

